চোখের অন্তরালে অদৃশ্য ছায়ার উপস্থিতি

0
24

❝চোখের অন্তরালে অদৃশ্য ছায়ার উপস্থিতি❞
আমাদের খালি চোখে দেখা দুনিয়ার সবটা দৃশ্য মানসপটে ভেসে উঠে না।তাঁর বাইরে ও আছে এক অদৃশ্য জগৎ। যে জগতে রয়েছে সঙ্গাহীন কিছুর অনুপস্থিতি যাকে আপনি আমি বিজ্ঞানের ভাষায় কিছুই নেই বলে উড়িয়ে দিলেও মনকেন্দ্রীক চিন্তা ভাবনা বলে দিবে অবশ্যই আছে। আমাদের ধর্মেও তার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।যাঁদের উপস্থিতি আমরা কিছু কিছু জায়গায় পেয়ে থাকি।নিশ্চয়ই ধরে ফেলেছেন কি নিয়ে আজ কথা বলছি??জ্বি জ্বিন/অদৃশ্য উপস্থিতি/ভূত যাই বলেন না কেন।আচ্ছা ভূত-প্রেত বা ভৌতিক কিছু কি এক?বা ভূতের গল্প??ভৌতিক গল্পকে এমন এক ধরণের গল্প বলা যায়, যেখানে ভূত বা ভূতবিশ্বাসী কাল্পনিক চরিত্র, ভয়, অতিপ্রাকৃতিক বিষয়আশয় থাকবে। ভৌতিক গল্প শুধু ভয় ডরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এতে রম্যরস যুক্ত হতে পারে।
ডিকশনারিতে –ভৌতিক গল্প হলো এমন একটি গল্প বা কাহিনী, যেখানে ভৌতিক দৃশ্যপট থাকবে এবং অতিপ্রাকৃত বিষয়াআশয়ের মাধ্যমে গল্পের প্লট এগিয়ে যাবে এবং ঠান্ডা, ভয় আর অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
বাংলা উইকিপিডিয়া মতে-ভূতের গল্প হলো একটি কল্পকাহিনী বা নাটক, যেটাতে কোনো ভূত বা ভূতবিশ্বাসী চরিত্র থাকে। গল্পে “ভূত” স্বেচ্ছায় আসতে পারে, আবার জাদুবলেও তাকে ডেকে আনা হতে পারে। আর ভূতের সাথে অতিপ্রাকৃত ঘটনা বা কোন ব্যক্তি বা সত্তা না নিজের সাথে ঘটে থাকে।কিন্তু কথা হলো এটা যদি সত্যি সত্যিই বাস্তব জীবনে প্রভাববিস্তার করে?তখন কেমন হবে??
বলছিলাম Gonjium Haunted Asylum মুভির কথা। যেখানে পাবেন লোমহর্ষক অনুভূতি আর লোভের ফলাফল।
❝লোভে পাপ,পাপে মৃত্যু❞
Mankind’s greed for the satisfaction of the soul is so influential that it has lost its own conscience —
আত্মার পরিতৃপ্তির সাধনায় মানবজাতির লোভ এতোটাই প্রভাবিত করছে যে নিজের বিবেক হারিয়ে ফেলেছে।জীবনে প্রভাব-প্রতিপত্তি আনুষঙ্গিক সবকিছু কি প্রাণ থেকে বড়?তা হয়তো নয়।যেখানে আত্মার অস্তিত্বে বিলুপ্ত হয়ে যাবার মত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় সেখানে লোভে বর্শবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া নেহাত বোকামি।আমাদের সমাজে এমন অহরহ মানুষ আছে যাঁরা নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই আশেপাশের মানুষগুলো কে ব্যবহার করে,আর বর্তমানে এই ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে স্যোশাল মিডিয়া।যাকে পুঁজি করে কেউ অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে, আবার কেউ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আর এগুলো দেখে দেখে আমরা এতটাই হাঁপিয়ে উঠেছি যে এখন সত্য-মিথ্যার প্রভেদ খুঁজি না।চোখ বন্ধ করে মতামত জাহির করি।ব্যাপারটা অনেকটা “রাখাল বালক ও বাঘের গল্পের মতো”।
The vision of the greedy eye never sees the border. Once that eye becomes blind—লোভাতুর চোখের দৃষ্টি কখনো সীমানা দেখেনা। একসময় সেই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। মুভিটা দেখে আপনি তেমনি অনুভূতি পাবেন।


Movie : Gonjiam Haunted Asylum.
Genre :Horror
Language : Korean
Country :South Korea
Director :Gong Bom -Shik
Cast & Crew:
Wi Ha joon
Oh Ah -Yeon
Moon Ye Won
Lee Sung Wook
Park Sung hoon
IMDb:6.1/10
Run Time:91 min


“Gonjiam Haunted Asylum” একটি সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল। যেখানে মানুসিক ভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হতো।কিন্তু সেই হাসপাতালের নার্স ও শেয়ারে প্রতিষ্ঠার মালিক নিজেই মানসিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে।কিন্তু সেটা গোপন রেখে তিনি ৪০২ নাম্বার রুমে রোগীদের নিয়ে চিকিৎসার নামে অত্যাচার করতো।একটা সময় তিনি একটাই মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগেন যে ওই কক্ষের সকল রোগী কে তিনি ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া যায়।সেদিনের পর থেকে ওনাকে আর কোথাও দেখা যায়নি।কিছুদিন পর ওনাকে সেই কক্ষেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।অনেকেই বলে রোগীদের হত্যা করে নিজেই আত্নহত্যা করেছিলেন এই মালিক।তখন থেকেই হাসপাতাল টা একটা পরিত্যেক্ত অবস্থায় রুপান্তরিত হয়।কেউ আর হাসপাতালের ধারেকাছেও যায় না।সময়ের পরিক্রমায় CNN এর মতে কোরিয়ার সবচেয়ে ভৌতিক জায়গা হিসেবে খ্যাতি পায়।তখন থেকেই অনেকের কাছে চ্যালেন্জ ছিল যে সেখানে রাত কাটানো,বা সেই রুমের দরজা খোলা যা কেউ আজতক পারেনি।
তথাকথিত যে যাঁরা যাঁরা আজ পর্যন্ত সেখানে সকল সাহস সঞ্চয় করে রাত কাটাতে গেছে তাঁদের কেউ দিনের আলো আর দেখতে পারেনি।আজকের মুভিটা সেই জায়গাকে কেন্দ্র করেই নির্মিত।

নো স্পয়লার
গল্পঃ Gonjiam Haunted Asylum হাসপাতালে একরাত্রি যাপনে অভিযানে নেমেছে তরুণ ৭সদস্যর এক দল,যাদের উদ্দেশ্য ছিল পুরো ভবন ক্যামেরা বন্দীকরা আর সেটা ও অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত করে টাকা উপার্জন করা,যা অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘হরর টাইমস ‘রাতের অন্ধকারে তারা সেখানে যাওয়ার পর একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে..
তারা কি পারবে তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে??পারবে আবার দিনের আলো দেখতে??ওরা পারবে ৪০২নম্বর রুমের দরজা খুলতে??খুললেও কি হবে তাদের পরিণতি?? নাকি বাকিদের মত করুন পরিণতি মেনে নিতে হবে তাদের ও???
মুভিটি পরিচালক Gong Bong Shik অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে তৈরি করেছেন।২০১৮ সালে ২৮শে মার্চে মুক্তি পেয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়া তে Tale of two sisters ও ফোনের পর সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি এটি,এবং সর্বাধিক দেখা হররফিল্ম।মুভিটা ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে বক্স অফিসে। মূল কাস্টিংয়ে অভিনয় করা Lee seung wook এর অভিষেক হয়েছিল এই মুভিতেই,কিন্তু কিছুদিন পর ওনি চলচ্চিত্র জগৎ কে বিদায় জানান। ব্যপারটা ছিল আকষ্মিক। তবে বাকিদের অভিনয় ও খুব সুন্দর ছিল। সত্যি বলতে ভয় পাওয়া অভিনয় টা ন্যাচারাল হওয়া খুব কঠিন। কিন্তু এই মুভিতে সবাই খুব সুন্দর অভিনয় করেছে।একটা হররফিল্মে সবচেয়ে আকর্ষনীয় হলো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, থিম কভার, মেক-আপ,কস্টিউম। যদি হররফিল্মে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক লোমহর্ষক অনুভূতি না প্রকাশ পায় তবে মুভিটা ভালো লাগবে না।কিন্তু মুভিটা সত্যিকার অর্থে খুবই পরিপূর্ণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।অশরীরী আত্মার উপস্থিতির দৃশ্যপট এমন ভাবে মানসপটে ফুটিয়ে তুলেছে যে শরীরে লোম দাঁড় করিয়ে দেয়।সিনেমাটোগ্রাফি ছিল খুবই পরিস্কার। রাতের অন্ধকার দৃশ্য গুলো ভালো করে ফুটিয়ে তুলেছে। মুভিটি ৫৫ তম গ্র্যান্ড বেল পুরস্কার,৩৯ তম ব্লু ড্রাগন চলচ্চিত্র পুরস্কার,সেভেন ইয়ার্স অব নাইট ও রেডি প্লেয়ার অব ওয়ানে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
পর্দার আড়ালে–


১। মুভিটা Gonjiam Haunted Asylum কে হলেও মজার বিষয় হলো মুভির বেশির ভাগ শুটিং করা হয়েছিল Nusan National Maritime Film Highschool এ।এবং হাসপাতালের করিডোরের মত হুবহু করিডোর স্থাপন করে শুটিং করা হয়েছিল।
২। মুভিটা পরিচালনা করার পর বর্তমানে হাসপাতালের মালিক পরিচালকের নামে মামলা দায়ের করেন,আর কারন হিসেবে উল্লেখ করেন যে ওনার এই ভবনটি বিক্রয়ে সমস্যা হতে পারে পরবর্তীতে।কিন্তু সকল অভিযোগ শেষে বক্স অফিসে মুভিটি মুক্তি পায়।
৩। পরিচালক Gong Bong Shik হাসপাতালটি পরিদর্শন করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পান,আর অনেকেই বলা শুরু করেন মুভিটা তৈরিতে বাঁধা হিসেবে এটা তাঁর জন্য সতর্কবার্তা ছিল।
কথায় আছে–“ লোভ হলো এক অতল গহ্বর যা কোন ব্যক্তিকে কখনো সন্তুষ্টি না করেই প্রয়োজন মেটাতে অন্তহীন প্রয়াসে ক্লান্ত করে তোলে”।
আপনি যতটা লোভ করবেন সেই লোভটাই একটা সময় সর্প হয়ে আপনাকে দংশন করবে।নয়তো আপনাকে এমন ভাবে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরবে আপনি এর থেকে বেরুতে পারবেন না।দিনশেষে একটাই রাস্তা খোলা থাকবে তা হলো “মৃত্যু”।তাই কিছু নিয়ে লোভ করা উচিত নয়,আর সে যদি হয় এমন হরর কোন মাধ্যমে।

লিখেছেনঃ মাহরীন হক মোহো

অন্যান্য ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here